Hey Tarunyer Murta Pratik Poetry by Khushi Sarkar
কবিতার শিরোনাম -'হে তারুণ্যের মূর্ত প্রতীক'
কলমে: খুশী সরকার
ধরণ: দেশাত্মবোধক কবিতা
Poem Title: Hey Tarunyer Murta Pratik (Hey Embodiment of Youth)
Author: Khushi Sarkar
Genre: Patriotic Poem
Hey Tarunyer Murta Pratik Poetry by Khushi Sarkar
The central theme of the poem:
Netaji Subhash Chandra Bose is the fiery embodiment of rebellion in Indian history. He was a fearless patriot and the epitome of eternal youth. He was an uncompromising, heroic warrior dedicated to breaking the chains of enslaved Mother India. He readily sacrificed his personal comfort for the love of his country.
In his daring struggle against the British power, he traveled from country to country, thwarting various British tactics and strategies. He formed the 'Azad Hind Fauj' (Indian National Army). His slogan, "Delhi Chalo" (March to Delhi), resonated even in Imphal, Manipur. With heroic valor, he appealed to his countrymen, "Give me blood, and I will give you freedom." Even today, the people of India find it hard to believe in the death of such a courageous patriot.
কবিতাটির মূলভাব:
ভারতের ইতিহাসে বিদ্রোহের অগ্নিশিশু 'নেতাজী সুভাষ চন্দ্র বসু'। নির্ভীক দেশপ্রেমিক, চিরতারুণ্যের মূর্ত প্রতীক তিনি। পরাধীন ভারতমাতার শৃঙ্খলমোচনে তিনি আপোসহীন বীর সংগ্রামী সৈনিক। স্বদেশপ্রেমে আত্মসুখ বিসর্জনে ছিলেন তৎপর।
ইংরেজ শক্তির বিরোধিতায় দুঃসাহসী অভিযানে তিনি দেশ থেকে দেশান্তরে পাড়ি দিয়েছেন। নস্যাৎ করেছেন ইংরেজ শক্তির নানা কায়দা কৌশল। গড়েছেন 'আজাদ-হিন্দ ফৌজ'। তাঁর 'দিল্লি চলো' ধ্বনিতে কেঁপে উঠেছিল মণিপুরের ইম্ফল। দেশবাসীর কাছে বীর বিক্রমে তাঁর আহ্বান — "তোমরা আমাকে রক্ত দাও, আমি তোমাদের স্বাধীনতা দিব।" এমন দুঃসাহসী দেশপ্রেমিকের মৃত্যু আজও ভারতবাসী বিশ্বাস করে না।
হে তারুণ্যের মূর্ত প্রতীক
খুশী সরকার
বিদ্রোহের অগ্নিশিশু তুমি নেতাজি সুভাষ,
চির সবুজ দামাল তোমার নবীনত্বেই প্রকাশ।
দুঃসাহসী ডানায় চির উড্ডিন হে দেশপ্রেমিক,
তুমি নির্ভীক চির তারুণ্যের মূর্ত প্রতীক।
তুমি দুঃসাধ্যের সাধক দুর্গম পথের কান্ডারী,
জন্ম আঠার'শ সাতানব্বই তেইশ জানুয়ারি।
পিতা জানকীনাথ বসু কটকের ব্যবহারজীবী,
মাতা তোমার রত্নগর্ভা প্রভাবতী দেবী।
স্বদেশপ্রেম আর সেবাব্রতের শুরু বাল্যভোরে,
জন্মভূমি উড়িষ্যার সেই কটক শহরে।
ওটেন সাহেবের কুমন্তব্যের প্রতি বিরাগে,
চারিত্রিক দৃঢ়তার পরিচয় কলেজ ত্যাগে।
স্কটিশ চার্চ কলেজ থেকে কৃতিত্বে বি.এ পাস,
বিলেতে আই.সি.এস.পাশে তৃপ্ত পিতার আশ।
পরাধীন দেশের দাসত্ব শৃংখল মোচন লক্ষ্য,
তাই গৃহ সুখ-শান্তি ত্যাগেও হয়ে উঠলে দক্ষ।
ভারতের মুক্তিযুদ্ধের অপরাজেয় ঋত্বিক,
দেশবন্ধুর শিষ্যত্বে জীবন শুরু রাজনৈতিক।
বিচিত্র কর্মোদ্যোগে তোমার জীবন মহান,
পৌরপতির মুখ্য কার্যনির্বাহে দায়িত্ববান।
উত্তরবঙ্গ বন্যা সহায়ক সমিতির সম্পাদক,
তুমিই ছিলে স্বেচ্ছাসেবক হরতাল আহ্বায়ক।
তুমিই একমাত্র ভারতের আপোষহীন সৈনিক,
দেশের পূর্ণ স্বাধীনতার বীর সংগ্রামী পথিক।
তোমার দেশনায়কত্বে ভীত ইংরেজ সরকার,
তাই কারাগারে নিক্ষিপ্ত করেছিল বারবার।
ছিলে কংগ্রেসীয় আপোষপন্থির ঘোর বিরোধী,
স্বাধীনতা অর্জনে চরমপন্থী নীরবধি।
প্রাক দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে লক্ষ্য স্বাধীনতা,
বিশ্বে সংগ্রাম ছড়ানোয় ইংরেজ বিরোধিতা।
মূর্তিমান বিপদ ছিলে ইংরেজ শাসকের কাছে,
ইংরেজ নজরবন্দী করেছিল তাই পাছে।
ভারতমাতার দামাল ছেলে আঁটলো নব ফন্দি,
পুলিশকে ফাঁকি দিয়ে পার হলে দেশের গণ্ডি।
গৃহত্যাগে হলে তুমি ছদ্মবেশধারী,
অগ্নিদগ্ধ খধূপে দিলে স্থানান্তরে পাড়ি।
ছুটলে একে একে বার্লিন-কাবুল-সিঙ্গাপুরে,
লক্ষ্য পূর্ণ স্বাধীনতা ছিল হৃদয় জুড়ে।
আজাদ হিন্দ ফৌজের নেতৃত্বভারে ফৌজি,
নবজন্মে হলো দুঃসাহসিক নেতাজি।
দেশপ্রেমিক হে নেতাজি তোমায় বীরত্বে গনি,
উঠলো কেঁপে ইম্ফল শুনে 'দিল্লি চলো' ধ্বনি।
ওড়ালে জাতীয় পতাকা দূর আন্দামানে,
আজাদ হিন্দ ফৌজের পতন তখন জাপানে।
বিমানে করেছিলে তুমি জাপান যাত্রা,
তাইহোকু বিমান দুর্ঘটনায় বাড়লো মৃত্যু মাত্রা।
তোমার মৃত্যু বিশ্ববাসী করে না বিশ্বাস,
মনে পোষে আজো তোমার ফেরার আশ্বাস।
হয়তো শোনা যাবে তোমার অশ্বের হ্রেষা ধ্বনি,
ফিরবেই তুমি বীর নেতাজি বাংলার নয়নমণি।
তোমার মত আত্মত্যাগী দেশপ্রেমিক আর কে?
বীরশ্রেষ্ঠ নেতাজি কুর্নিশ জানাই তোমাকে।
রচনাকাল তাং: ২৩-০১-২০২৬

No comments:
Post a Comment
Save my name, email, and website in this browser for the next time I comment.